মাত্র ৫ সদস্যেকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার ঘটনা সন্দেজনক

0

মাত্র ৫ সদস্যের এক পরিবারকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার ঘটনাকে সন্দেহের চোখে দেখছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। কারণ, নতুন-পুরোনো মিলিয়ে বর্তমানে এদেশে রোহিঙ্গা সংখ্যা ১৩ লাখেরও বেশি। তাই তাদের দাবি, বিতর্কিত ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ডের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে- ওই পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার। এদিকে, বাংলাদেশ সরকারও বিষয়টি ভালভাবে দেখছে না বলে মনে করছেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।

গেলো বছরের ২৫ আগস্ট থেকে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। হত্যা, ধর্ষনসহ মিয়ানমার সেনাদের নানা বর্বরতা থেকে প্রাণে বাঁচতে বুক ভরা ক্ষত নিয়ে বাংলাদেশে ছুটে আসে অসহায় মানুষগুলো।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অস্থায়ীভাবে মানবিক আশ্রয় মেলে রোহিঙ্গাদের। কিন্তু ছোট কাঁধে বড় দায়িত্ব নিতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার রাজী হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

এদিকে শুধু কার্ডের নাগরিকত্ব নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা ছাড়াও জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পেলে নিজ দেশে ফিরতে রাজী নয় বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।

রোববার বান্দরবানের তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে মাত্র ৫ সদস্যের একটি পরিবারকে রাতের আধারে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয় মিয়ানমার। বলাবলি হচ্ছে- ফিরে যাওয়া ওই পরিবারটির কর্তা আকতার চেয়ারম্যান মিয়ানমার সেনাদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতো। তবে কাউকে না জানিয়ে এভাবে রাতের আধারে কোন পরিবারকে ফিরিয়ে নেয়াটা যে প্রত্যাবাসন নয়, সেটাই বলছেন সবাই।

তাই কোন ছলচাতুরি নয়, সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

শেয়ার করুন।