ভৈরবের মুড়ি এখন রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশে

0

রমজানে লক্ষ্মীপুর, নাটোর, ভৈরব, গাইবান্ধা ও ঝালকাঠিতে চলছে মুড়ি ভাজার ধুম। নাটোরের কৃষ্ণপুর গ্রামের দু’শ পরিবারের জীবিকা চলে এই মুড়ি ভেজে। আর ভৈরবের মুড়ি এখন রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশে। এদিকে, চাহিদা বেশী থাকায় মুড়ি ভাজার উৎসব চলছে গাইবান্ধা ও ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায়। তবে কেমিকেল মিশিয়ে মুড়ি ভাজার অভিযোগ রয়েছে বেশকিছু কারখানার বিরুদ্ধে।

রমজান উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর শহরের শমসেরবাদ এলাকায় মুড়ি উৎপাদনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে শতাধিক পরিবারের সদস্যরা। প্রতিটি পরিবার গড়ে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ মণ মুড়ি উৎপাদন করে। প্রতি মণ মুড়ি পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে সাড়ে ৪হাজার টাকা।

নাটোরের কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রায় ২শ’ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস মুড়ি ভাজা।প্রায় ৪০ বছর ধরেই চলছে মুড়ি ভাজার ব্যবসা। তবে এ ব্যবসা আরো ভালোভাবে চালাতে সরকারের সহযোগিতা দাবি শ্রমিকদের।

এদিকে, এ ব্যবসার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন, জেলা প্রসাশক।

ভৈরবের ৫টি অটো মুড়ির কারখানায় প্রতিবছরে উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার ৫শ’ টন মুড়ি। এ মুড়ি সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ হাওর অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা হচ্ছে ইউরোপের পর্তুগাল ও মধ্যপ্রচ্যের দেশগুলোতে।

মফস্বলের কারখানাগুলোর ক্যামিকেল মিশ্রিত মুড়ি উৎপাদন নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা বলে জানালেন ভৈরব-এর এই ব্যবসায়ী নেতা।

এদিকে, গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে ধান শুকানোর মহা-উৎসব। ধান চুলায় সিদ্ধ করে, বাড়ির আঙ্গিনায় শুকিয়ে, চুলায় ভেজে দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে মুড়ি।

আদি ও দেশীয় পদ্ধতিতে মুড়ি শিল্পের এই পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে ঋণসহ বিভিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন বিসিকের এই কর্মকর্তা।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে চলছে মোটা মুড়ি ভাজার উৎসব। ক্ষতিকারক পদার্থ ছাড়া মুড়ি তৈরি করলেও চালসহ অন্যান্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির ফলে পরিশ্রমের সঠিক মজুরি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ মুড়ি কারিগরদের।

দেশ-বিদেশে চাহিদা সম্পন্ন এই মুড়ি শিল্পের উন্নয়নে সরকারের সবধরনের সহযোগীতার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন