ভূমিকম্পবিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা ইরান

0

ভূমিকম্পবিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সরকারি মূখপাত্র জানান, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে– সাড়ে চারশোতে পৌঁছেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এদিকে, ভূমিকম্পে ইরাকের সুলামানিয়াহ প্রদেশ ও কুর্দি অঞ্চলে কমপক্ষে ১৩ নিহত হয়।

ইরান-ইরাক সীমান্তে গত রোববার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে, ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশের বেশকিছু গ্রাম, শহর ও পাহাড়ি এলাকা বিধ্বস্ত হয়। এসময় সেখানে অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলো। ভূমিকম্পে দেশটির কমপক্ষে ১৪টি প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মূখপাত্র জানান, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম। সবচে’ ক্ষতিগ্রস্ত পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানশাহে উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। ‘সর্বশেষ হিসেবে মৃতের সংখ্যা তিন’শ ৪৮ জন। আহত ৬ হাজার ৬০৩ জন। ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

পুরোদমে চলছে আহতদের চিকিৎসা ও রক্তদান কর্মসূচি। তেহরান ব্লাড ট্রান্সফিউসন সেন্টার নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ধারণকারীদের জরুরি ভিত্তিতে রক্তদানের অনুরোধ জানিয়েছে।

‘ও’ নেগেটিভ গ্রুপের চাহিদা অনেক বেশি। অন্য নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের চাহিদা ব্যাপক। বন্ধু, আত্মীয় সহকর্মী সকলেই ছুটে আসছেন রক্তদান করতে।’ দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

(‘আমরা এখানে আসার সময় আহত মানুষজন থাকার জন্য অস্থায়ী আবাসের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা সাধ্যমতো তাদের জন্য অস্থায়ী তাবু করে দেবো ।পাশাপাশি, তাদের স্থায়ি আবাসস্থল গড়ার জন্য ঋণের ব্যবস্থা করবো।’ এদিকে, ভূমিকম্পে ইরাকের সুলামানিয়াহ প্রদেশে কমপক্ষে ছ’জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছে। আর কুর্দি এলাকায় সাতজন নিহত ও ৩২৫ জন আহত হয়েছে।

২০১২ সালের পর, ইরানে রোববারের ভূমিকম্পে সবচে’ বেশি প্রাণহানি হয়েছে। ২০০৩ সালে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বামে ভূমিকম্পে ২৬ হাজার লোক মারা যায়।

শেয়ার করুন।