ভারতীয় চালে বাজার ভরা কুষ্টিয়ার চালকল মালিকরা বিপাকে

0

ভারতীয় চালে বাজার ভরা থাকায় কুষ্টিয়ার খাজা-নগরের চালকল মালিকরা পড়েছেন বিপাকে। বেশিরভাগ মিলে তাই উৎপাদনও বন্ধ। এতে, জেলার ১৫ হাজার চাতাল ও চালকল শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে। শত কোটি টাকার পুরনো চাল গুদামে মজুদ থাকায় নতুন ধান বাজারে এলেও কিনতে পারছেন না তারা। আমদানি নিয়ন্ত্রণ না করলে দেশে উৎপাদিত চাল শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের বৃহত্তম চালের মোকাম- কুষ্টিয়ার খাজানগর। বোরো ওঠার মৌসুমে প্রতিবছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ৭ হাজার ট্রাক চাল বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এবার ভারতীয় নিম্নমানের চালে বাজার সয়লাব থাকায় কুষ্টিয়া থেকে আড়াই মাসে ১ হাজার ট্রাক চালও সরবরাহ হয়নি। ফলে ধান কেনা বন্ধ থাকায় বাজারে পড়ে গেছে বোরোর দাম। চাতালগুলোতে বর্তমানে কাজ না থাকায় শ্রমিকরাও অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।

গতবছর চালের দাম বাড়ার পর আমদানী উন্মুক্ত করায় ৭/৮ মাস ধরে কুষ্টিয়াসহ সারাদেশের বাজারে বিজয়ভোগ, নূরজাহানসহ হরেক কোম্পানির ভারতীয় চালের ছড়াছড়ি। ভারতীয় চালের দাম বেশি, আবার ভাতের মানও খারাপ বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

পুরনো চাল মজুদ থাকায় নতুন ধান কিনতে পারছেন না চালকল মালিকরা। এতে দেশের কৃষকরাও মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে জানালেন তারা।

মজুদ শত কোটি টাকার চাল নিয়ে বর্তমানে বিপাকে মিলাররা। তাই কেজিপ্রতি ৪/৫ টাকা লোকসানে চাল বিক্রি করে দ্রুত গুদাম খালির চেষ্টা করছেন তারা। না হলে শিগগিরই খাবার অযোগ্য হয়ে পড়বে এসব চাল। এতে জেলার চালশিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় নামার আশংকা মালিক সমিতির।

শেয়ার করুন।