বিশ্ববাসী যখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে

0

ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায়, বিশ্ববাসী যখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখন জানা গেছে, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বর্মণ সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা ‘নাগরি’ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথচ নাগরি ভাষায় বর্নমালা ছিলো; ছিলো ছড়া, কবিতা ও গান। শিক্ষিত কিছু মানুষ নাগরি ভাষার অল্প-স্বল্প বর্ণমালা ও শব্দ উদ্ধার করে– তা শেখাচ্ছেন শিশুদের। কিন্তু তাতেও নেই আশার আলো। এনিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটেরও নেই কোন উদ্যোগ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ১৯৯১ সালের প্রতিবেদন বলছে, দেশে ২৯টি নৃ-তাত্ত্বিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা, ১২ লাখ ৫ হাজার ৯৭৮ জন। এর মধ্যে বর্মণ সম্প্রদায়ের প্রায় ৫৪ হাজার। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ঠাকুরপাড়া এলাকায় বসবাস করে, অন্তত ৭ হাজার বর্মন। তাদের ধর্ম, হিন্দু আর মাতৃভাষা- নাগরি। কয়েকশ’ বছর আগেও, এই ভাষাতেই গান-কবিতায় মুখর থাকতো ঠাকুরপাড়া।

হারিয়ে যাওয়া কিছু বর্ন আর শব্দ নিয়ে, প্রাণের এই মাতৃভাষাকে আঁকড়ে ধরে রাখার নিরন্তর প্রচেষ্টা বর্মনদের। মায়ের ভাষায় কথা বলতে না পারার কষ্ট বড়দের মনেও। তবে নিজেদের ভাষা ফিরে পেতে ব্যাকুল মানুষগুলো মাত্র কয়েকটি বর্ণ আর শব্দ নিয়ে তাকিয়ে আছে একবুক আশা নিয়ে।

বায়ান্নোর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর, ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা দেয়। এরপর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট গঠন হলেও, তার সুফল পৌঁছেনি নাগরি ভাষা উদ্ধারে। মায়ের ভাষা হারিয়ে বর্মণ সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ এখন জ্বলছে মনের কষ্টে।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন