বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এমন গ্রামে গ্রামে গিয়ে, ডেকে ডেকে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন ঝিনাইদহে

0

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ফেরিওয়ালার সাথে গ্রাম-গঞ্জ কিংবা শহর-বন্দরে দেখা মেলে হরহামেশাই। এবার আলোর ফেরিওয়ালার সাথে দেখা মিললো ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুর প্রত্যন্ত গ্রামে। বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এমন গ্রামে গ্রামে গিয়ে, ডেকে ডেকে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন। ফলে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ লাইনের জন্য এখন আর বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে না।

তিনি বিদ্যুত লাইনের ফেরিওয়ালা। নাম শেখ আব্দুর রহমান। পল্লীবিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিদ্যুতবিহীন গ্রামের বাড়ী বাড়ী ঘুরে বেড়ান তার ভ্রাম্যমান অফিস আর দলবল নিয়ে। ডেকে ডেকে দেন বিদ্যুৎ সংযোগ। একটি ভ্যানগাড়ীই তার অফিস। রোজ ঘুরে বেড়ান সকাল-সন্ধ্যা। এজন্য গ্রাহকের এক টাকাও বাড়তি খরচ নেই। তার এমন কর্মসূচি শুধু জনগণের মাঝেই নয়, আলোড়ন তুলেছে সরকারের অন্যান্য দফতরেও। গ্রাহকের বাড়িতে বসেই নির্ধারিত ফিস নিয়ে রশিদসহ সাথে সাথেই দেন সংযোগ। পাঁচ মিনিটেই জ্বলে ওঠে বাতি। একে তিনি ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ নাম দিয়েছেন।

সর্বমোট ৫শো ৬৫ টাকায় মিটারসহ ঘরে বসেই বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে খুশি গ্রাহকরা। গ্রাহকদের হয়রানি এড়াতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যায়– সেই পরিকল্পনা থেকেই ভ্যান গাড়িতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন বিদ্যুৎ কর্মচারীরা।

ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জানান, হরিণাকুন্ডু পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি যে কর্মসূচি নিয়েছে তা অনুকরণীয়। বাকি উপজেলাগুলোতেও আলোর ফেরিওয়ালা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ঝিনাইদহের অনগ্রসর উপজেলা– হরিণাকুন্ডুর ৮টি ইউনিয়নে গ্রাম রয়েছে ১৩৬টি। যেখানে বাস করে প্রায় ৩ লাখ মানুষ। চাঁদপুর ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ইউনিয়নে বর্তমানে ৩৭ হাজার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন