বাজেট ঘোষণার পর নেতিবাচক প্রভাব চট্টগ্রামের পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জে

0

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত প্রস্তাবিত বাজেটের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের সবচে’ বড় পাইকারী বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। দু’দিনের ব্যবধানে আমদানি নির্ভর প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজেট ঘোষণার আগে কাস্টমস অফিস পণ্য খালাস বন্ধ রাখায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বাজারে। আর ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বাজেটে আমদানি পণ্যের ৫ শতাংশ সারচার্জ নির্ধারণের ঘোষণা দেয়ায় শিগগির কমছে না নিত্যপণ্যের দাম।

ঈদের ছুটি আর নতুন বাজেট ঘোষণার পর শনিবার ছিল বাজার জমে ওঠার প্রথম দিন। কিন্তু সকাল থেকেই দেশের সবচেয়ে বড় এই পাইকারী বাজারে দেখা যায় ভিন্ন ছবি। অধিকাংশ আমদানীকারকই পণ্য ছাড়েননি। তাদের দাবি প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানী পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ সার চার্জ নির্ধারণ করলেও তা কবে থেকে বাস্তবায়ন হবে সে ব্যাপারে কিছুই বলেনি সরকার। তাই এ ব্যপারে কাস্টমসের সিদ্ধন্ত না জানা পর্যন্ত পণ্য ছাড়বেন না তারা।

আমদানীকারকরা পণ্য না ছাড়ায় দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন আড়তদাররা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে বুধবার প্রতিকেজি ২২ টাকায় বিক্রি হওয়া পেয়াজ শনিবার বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকায়, ১২০ টাকার রসুন ১৩০ টাকা, ২৯৫ টাকার জিরা ৩০৭ টাকা, ৩৫০ টাকার গোলমরিচ ৩৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতিকেজি চিনিতে ৪ টাকা আর সবধরণের ভোজ্যতেলের লিটারে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানী পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ সার চার্জ আরোপের ঘোষণা শেষ পর্যন্ত থাকবে কিনা সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা থাকায় আমদানি কমবে মাসজুড়েই। এতে আসছে কোরবানীর ঈদে মসলাসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

প্রায় সব ধরণের মসলা-ই আমদানি নির্ভর। এছাড়াও অপরিশোধিত ভোজ্য তেল, অপরিশোধিত চিনিসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যই আমদানী করেই চাহিদা মেটে। তাই আমদানী পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকলে অস্থির হয়ে উঠবে দ্রব্যমুল্যের বাজার। এমনটাই মনে করেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।

দ্রব্যমুল্যের নাম-বুধবারের দাম-শনিবারের দাম
পেঁয়াজ- ২২ /=- ২৮/=
রসুন- ১২০/=- ১৩৫/
জিরা- ২৯৫/=- ৩০৭/=
গোল মরিচ- ৩৫০/=- ৩৬০/=
লবঙ্গ- ৮৭০/=- ৯০০/=
এলাচ- ২২৫০/=- ২২৯০/=
হলুদ- ৯২/=- ৯৬/=
শুকনা মরিচ- ১৩৫/=- ১৪০/=
শুকনা মরিচ (চিকন)- ১৫৫/=- ১৬২/=
দারুচিনি- ৩১০/=- ৩২০/=
পাম তেল- ১৯১০/=- ১৯৪০/=
সিটি তেল- ২৬০০/=- ২৭০০/=

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন