বন্যায় রাজশাহী বিভাগে এক হাজারেরও বেশি স্কুল পাঠদানের অনুপযোগি

0

এবারের বন্যায় রাজশাহী বিভাগের সহস্রাধিক স্কুল অচল হয়ে পড়েছে। অনেক স্কুলই চলে গেছে নদীগর্ভে। বন্যার পানি ওঠায় বহু স্কুলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ ১ নভেম্বর থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী- পিইসি ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার আগ মুহূর্তে ক্লাস-পরীক্ষা, প্রাইভেট ও কোচিংসহ সবকিছু বন্ধ থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী। তবে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে ছুটির দিনেও ক্লাস চলবে স্কুলগুলোতে।

রাজশাহী বিভাগের আট জেলার প্রায় সবক’টিই এখন বন্যায় প্লাবিত। ভেঙে পড়েছে বহু বাড়িঘর। পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ। বন্যার কবল থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। পানি ওঠায় এ বিভাগের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। থৈ-থৈ পানিতে যেখানে জীবন বাঁচানোই দায়, সেখানে পড়াশোনার কথা তো ভাবতেই পারছে না শিক্ষার্থীরা। অনেকেরই আবার বইখাতাও ভেসে গেছে বন্যায়। পরীক্ষার আগ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও শিক্ষকরাও।

তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, শিক্ষার্থীদের এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ছুটি কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনে ক্লাস চলবে শুক্রবারও। এজন্য জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারাদের ছুটি বাতিল করে শিক্ষাকার্যক্রম তদারকির নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

এদিকে, বন্যার মতো এমন জাতীয় দূর্যোগে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। কিন্তু হাতে এখনো আড়াই মাস বাকি। তবে এরমধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পরীক্ষা পেছানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।

এবারের বন্যায় রাজশাহী বিভাগের ৩৩৪টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ৬৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আর জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দু’লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী।

শেয়ার করুন।