প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম তাঁত শিল্প

0

দেশীয় কাপড়ের চাহিদার বড় জোগান তাঁত থেকে এলেও, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম এই শিল্প। এজন্য তাঁতিরা, চাহিদা মতো বিদ্যুৎ ও সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়াকেই দায়ী করলেন। তবে দেশের হারানো ঐতিহ্য–‘মসলিনকে’ ফিরিয়ে আনাসহ তাঁত পণ্য রপ্তানীযোগ্য করতে– সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী।

কালের বিবর্তনে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার বাড়ায় ভিন্নতাও বাড়ছে পেশায়। এরমধ্যে তাঁত শিল্পেও হালের যুগে স্থান করে নিয়েছে যান্ত্রিকতা। হাতে বুনানো তাঁত এখন চলছে নতুন রূপে।

কম সময়ে বেশি উৎপাদন আর খরচ কম হওয়ায় এই যান্ত্রিক তাঁতের দিকেই ছুটছেন তাঁত শিল্প মালিকরা। এ দিয়েই তৈরি করছেন রং বেরঙের বাহারি কাপড়। এই তাঁত শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে জীবিকা চলছে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের। যেখানে বছরে ৭০ কোটি মিটারেরও বেশি কাপড় উৎপাদন হয়। দেশীয় চাহিদার ৪০ ভাগই জোগান দিচ্ছে তাঁত শিল্প। আর এ খাত থেকে বছরে রাজস্ব যোগ হচ্ছে দেড় হাজার কোটিরও বেশি।

এই তাঁত শিল্প থেকেই এদেশে তৈরি পোশাক খাতের যাত্রা। যার ছোঁয়ায় অপরূপ কারুকার্য আর রং-বেরঙের তাঁতজাত পণ্যের সুনাম ছড়িয়েছে বিদেশে। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যাকে এই শিল্প হুমকির হিসেবে মনে করছেন তাঁতিরা।

তবে হারানো ঐতিহ্য মসলিনকে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। সেই সাথে নতুন তাঁত পল্লী তৈরিসহ সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ, উন্নতমানের সুতা ও কাঁচামাল কমদামে আমদানির কথা জানিয়েছেন এই প্রতিমন্ত্রী। মুক্ত বাজার অর্থনীতি আর প্রযুক্তিগত উত্কর্ষতার প্রতিযোগিতায় এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সব বাধা উপেক্ষা করে নতুন দিনের স্বপ্ন বুনছেন তাঁতীরা।

শেয়ার করুন।