পশ্চিমে আমেরিকা থেকে পূর্বে জাপান– সবখানেই ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে

0

পশ্চিমে আমেরিকা থেকে পূর্বে জাপান– সবখানেই ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে। সাধারণ আমানতকারীদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ায় এই ধসের মুখে পড়েছে বিশ্ব পুঁজিবাজার। সোমবার ছয় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় এশিয়া, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারে দরপতনের ধারা চলছে।

২০১১ সালের পর এই প্রথম বড় ধস নেমেছে বিশ্বের বড় বড় পুঁজি বাজারগুলোতে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পুঁজিবাজার- ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক ধস নামে। একদিনেই কমে যায় ১৬০০ পয়েন্ট। এর প্রভাব গিয়ে পড়ে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের শেয়ার বাজারে। ওয়াল স্ট্রিটের সঙ্গে যুক্ত জাপানের শেয়ার বাজারের সূচক ‘নিক্কি’ এক ধাক্কায় কমেছে ৪.৬ শতাংশ। মঙ্গলবার ভারতের শেয়ার বাজারেও পতন শুরু হলে মুম্বাই সেনসেক্স ১২৭৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৩৩,৪৮২তে। নিফটিতেও দেখা দিয়েছে পতন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকার।

অস্ট্রেলিয়ার শেয়ার সূচক কমেছে ৩ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার কমেছে ২ শতাংশ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ওয়াল স্ট্রিট শেয়ার বাজারে ধসের কারণে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুঁজিবাজারের এই দুরবস্থা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেয়ারের চাইতে এখন তেজি হচ্ছে বন্ডের বাজার। বন্ডের সুদ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ এখন শেয়ার ছেড়ে বণ্ড কেনার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে জানালেন বিশেষজ্ঞরা।

ডাউ জোন্সের পাশাপাশি বৃহত্তর এসঅ্যান্ডপি ফাইভ হান্ড্রেড সূচক কমেছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিয়ে তৈরি সূচক নাসদাক ৩ দশমিক ৭ শতাংশ দর হারিয়েছে। লন্ডন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও প্যারিসের শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই তিন শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। লন্ডনের প্রধান কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত এফটিএসই ওয়ান হান্ড্রেড সূচক ১৮০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ কমে ৭ হাজার ১৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বেতন বাড়ার খবরের পর গত সপ্তায় শেয়ার বিক্রির এই চাপ শুরু হয়। এর ফলে বাজারে আশা তৈরি হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে হয়তো দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার বৃদ্ধিই শেয়ারবাজারে অস্থিরতার মূল কারণ।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন