নিদারুন কষ্টে দিন পার করছেন ৪’শরও বেশি চরের ছ’লক্ষাধিক মানুষ

0

রোজার সময় হাতে কোন কাজ আর জমানো টাকা না থাকায়, নিদারুন কষ্টে দিন পার করছেন, কুড়িগ্রামের ৪’শরও বেশি চরের ছ’লক্ষাধিক মানুষ। ইফতারির সময় কারো ভাগ্যে সামান্য চাল ভাজা জুটলেও বেশিরভাগ মানুষ– শুধু সাদা পানি দিয়েই সারছেন ইফতার। ঈদে ছেলে-মেয়েদের নতুন জামা-কাপড়তো দূরের কথা, সেমাই-চিনিই কিনতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে সংশয় চরাঞ্চলের মানুষের।

কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ফুলকুমার, ঞ্জিঞ্জিরামসহ ১৬টি নদ-নদী। আর এসব নদ-নদীর অববাহিকায়, গড়ে উঠেছে চার শতাধিক চর ও দ্বীপচর। এসব চরে বসবাসকারী প্রায় ছ’লাখেরও বেশি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন, কৃষি কাজ করে ও নদীতে মাছ ধরে। কিন্তু এবছর রোজার সময়টাতে হাতে কোন কাজ না থাকায়, চরম কষ্টে দিন কাটছে অভাবী চরবাসীর। বন্যা ও খরার সময় ধার-দেনা করে তাদের দিন কাটে। আবার যখন কাজ থাকে তখন সংসারের খরচ জোটানোর পাশাপাশি ধার দেনা শোধ করতেই সব শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় ইফতারি বা সাহরীতে ভালো খাবার যেন তাদের কাছে স্বপ্নের মতো।

চরাঞ্চলের এসব মানুষের অভাবের কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক জানালেন, তাদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বন্যা, নদী ভাঙ্গন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরাঞ্চলের এসব মানুষের জীবন-জীবিকার মান উন্নয়ন না হওয়ায়, বার বার এই জেলায় বাড়ছে দারিদ্র্য। ভাঙ্গন রোধসহ সরকারী বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে এসব মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সরকার নজর দেবে– এমনটাই প্রত্যাশা কুড়িগ্রামবাসীর।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন