রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪৫ শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার

0

গেল দু’বছরে নানা অজুহাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪৫ শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়েছে ছাত্রলীগের হাতে। অনেকেই হয়েছে পঙ্গু। তাদের নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি সাংবাদিকরাও। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পদলোভী শিক্ষকরা ছাত্রলীগ নেতাদের ব্যবহার করায় নানা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। তবে বেপরোয়া নেতাদের লাগাম টেনে ধরার এখন উপযুক্ত সময়। নেতাদের দাবি, ক্যাম্পাসে কোনো নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্রলীগ জড়িত নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা কমলেও ২০১৭ ও ২০১৮ সালে তা ছিল ভয়াবহ। এই দু’বছরে অন্তত ৪৫ শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা হয়েছে নানা অপবাদে। এর মধ্যে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়, কোটাসংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ও মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার ঘটনা।

কখনো শিবির ও মাদকাসক্ত আখ্যা দিয়ে পেটানো, আবার কখনোবা ছাত্রী উত্যক্ত বা সাধারণ ছাত্রকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি অথবা নেতাদের অনুমতি ছাড়াই আবাসিক হলে ওঠায় নির্যাতন করা হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। সংঘর্ষের ছবি তোলায় চোখ তুলে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে সাংবাদিকের। কিন্তু এসব ঘটনার কোনো বিচারের নজির নেই।

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে রাতভর পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নির্যাতনের বিষয়টি। এরইমধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠক করে আবাসিক হলগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ নিয়েছেন।একইসাথে বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।

ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, এই ক্যাম্পাসে কোনো নির্যাতনের ঘটনাই নেই। তবে প্রয়োজনে শুদ্ধি অভিযান চালানো যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্যাম্পাসে রাজনীতির নামে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে ছাত্রলীগ। আর বিভিন্ন পদে যেতে ছাত্রলীগ নেতাদেরই তোষামোদী করেন একশ্রেণীর শিক্ষক। এ কারণে বেপরোয়া কতিপয় নেতাকর্মী।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন