তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি’র ওপরই চলছে তামাক কোম্পানীর নিয়ন্ত্রণ

0

তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি’র ওপরই চলছে, তামাক কোম্পানীর অশরীরি নিয়ন্ত্রণ। যে কারণে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো চলছে তামাক চাষ। দেশের অনেক জেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ টাক্সফোর্সের কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার কারণে কাজে আসছে না তামাক নিয়ন্ত্রণের সরকারি উদ্যোগ, এমন তথ্য মিলছে সরজমিন অনুসন্ধানে।

গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে- গ্যাটসের তথ্যানুয়ায়ী দেশে মোট জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ ৪ কোটি ১৩ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করে। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই হার প্রায় সাত শতাংশ। ইনিস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স এন্ড ইভালুয়েশন-আইএইচএমই ‘র তথ্যমতে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর মারা যায় প্রায় এক লাখ মানুষ। এখাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আসে, তামাক ব্যবহারের কারণে অসুস্থ রোগীর চিকিৎসায় স্বাস্থ্যখাতে তার দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় করতে হয় সরকারকে। কিন্তু চাষ-নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার অভাবে এখনো চলছে এই বিষবৃক্ষের চাষ।

কুষ্টিয়া, মেহেরপুর এলাকায় সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে তামাকের চাষ। কৃষককে প্রলোভন আর সার-বীজের লোভ দেখিয়ে বছরের পর বছর তামাকের জমি বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে লাভের চেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছে এসব কৃষক। এ বিষয়ে মাঠের কৃষকদের সাথে কথা বলতে গেলে তামাক কোম্পানীর স্থানীয় এজেন্টরা তেড়ে আসে এসএটিভি নিউজ টিমের দিকে।

স্থানীয়ভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র কিন্তু ভিন্ন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ জেলা টাক্সফোর্সের কমিটিতে রাখা হয় না তাদের।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অর্থকরী ফসলের তালিকায় তামাকের নাম। বৈধ ফসল হওয়ায় কৃষি কর্মকর্তারা কোন চাষীকে তামাক চাষে সরাসরি বাধা দিতে পারে না। ফলে কার্যকরীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না তামাক চাষ। যে কারণে ২০৪০ এ প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা বাস্তবায়ন কোন পথে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন।