চামড়া রপ্তানীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক

0

আড়তদারদের বকেয়া পরিশোধসহ এবার নগদ মূল্য ছাড়া চামড়া বিক্রি না করার সিদ্ধান্তে বন্ধ রয়েছে ট্যানারীগুলোর কাঁচা চামড়া কেনা। তবে ট্যানারী মালিকদের সমিতি– বিটিএ’র প্রত্যাশা, খুব শীগগিরই আড়তদাররা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন। তাদের বকেয়া টাকা ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে বলেও জানান ট্যানারী মালিকরা। এদিকে, নগদ টাকার অভাবে জমেনি খুলনা বিভাগের সবচে’ বড় এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়া বাজার- যশোরের রাজারহাট। আর বড় ধরনের লোকসান এড়াতে চামড়া ভারতে পাচার হওয়ার আশংকা আড়তদারদের। এদিকে, সারাদেশের মতো কুমিল্লা ও সাভারেও এবছর পশুর চামড়া নামমাত্র দামে বিক্রি করতে হয়েছে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের। তাদের অভিযোগ, সিণ্ডিকেটের কারসাজিতেই চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে।

পরিবেশ ইস্যুতে গত ৩/৪ বছর ধরেই দেশের ট্যানারি খাতে ব্যাপক ধস নেমেছে। শনিবার থেকে আড়তদারদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কেনার সিদ্ধান্ত হলেও বকেয়া পরিশোধ না করায় ট্যানারি মালিকদের চামড়া কেনার সিদ্ধান্তে সাড়া দিচ্ছেন না আড়তদাররা। এতে স্থবিরতা নেমে এসেছে ট্যানারি মালিকদের চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রমে।

সাভার চামড়া শিল্প নগরীর বিসিক কার্যালয়ে শনিবার শিল্প সচিবের সাথে ট্যানারি মালিকদের সভায় অভিযোগ করা হয়, সরকারের রপ্তানী নীতিমালা অনুযায়ী কাঁচা চামড়া রপ্তানি নিষিদ্ধ। সেজন্যই ট্যানারি শিল্পে ৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন আইন অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে না।

ব্যাংক সহযোগিতা করলে শীগগিরই আড়তদারদের বকেয়া পরিশোধ করা হবে উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান বিটিএ’র সাধারণ সম্পাদক। আর সব পক্ষের যৌথ উদ্যোগেই সমাধানের কথা বললেন শিল্প সচিব।

এদিকে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার- যশোরের রাজারহাটে ঈদের পর সাধারণত প্রতিহাটে ৭০ থেকে ৮০ হাজার চামড়া উঠলেও এবার উঠেছে মাত্র ৩ হাজার চামড়া। এজন্য ন্যায্যমূল্যের অভাবকেই দুষছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

আড়তদাররা জানান, নগদ অর্থ ও ট্যানারী মালিকদের চাহিদার অভাব এবং আগের ১শ’ কোটি টাকার বকেয়া শোধ না করায় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের থেকে এবার প্রয়োজনীয় চামড়া সংগ্রহ করেনি তারা।

চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানান, কম দামে এবার যারা যেটুকু কাচা চামড়া সংগ্রহ করেছে, তাও এখন সরকারের রপ্তানির সিদ্ধান্তের জন্য মজুদ করে রাখা হয়েছে। রপ্তানীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলেই এ হাট জমে উঠবে।

এদিকে, কুমিল্লায় এ বছর প্রায় ৪ লাখ পশু কোরবানী হলেও মাত্র ৭০ ভাগ চামড়া সংগ্রহ করতে পেরেছে ব্যবসায়ীরা। দাম না পেয়ে বাকী চামড়া ফেলে দেয়ায় তা নষ্ট হয়ে গেছে।

ওদিকে, সুকৌশলে চামড়ার বাজারে ধস নামাতে ট্যানারি সিণ্ডিকেটের কারসাজিকে দুষছেন বাজার বিশ্লেষকরা। আর চামড়া ভারতে পাচার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন পুলিশ সুপার।

দেশের চামড়া শিল্প বাঁচাতে অবিলম্বে এই খাতকে পরিবেশ-বান্ধব করে কাচা চামড়া রপ্তানি নিষিদ্ধ রেখে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় অর্থায়নে এগিয়ে এলেই বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন