চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কাজে সমন্বয়হীনতায় বাধাগ্রস্ত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য

0

চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে। বন্দরের টার্মিনাল অপারেটররা বলছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বন্দরের কার্যক্রম। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে সবগুলো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করছেন তারা।

খাতা কলমে বছরে ২৬ লাখ কন্টেইনার আর ৬ কোটি টন খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং করার সক্ষমতা আছে চট্টগ্রাম বন্দরের। যদিও আধুনিক যন্ত্রাংশ আর দক্ষ জনবলের কারণে গেলো ২ বছর ধরে সক্ষমতার চেয়ে বেশি পণ্য হ্যান্ডলিং করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ব্যবসায়ীদের চাহিদা আরো অনেক বেশী।

বন্দরে নামার পর আমদানীকারকের গুদাম পর্যন্ত পৌছতে বা রপ্তানিপণ্য জাহাজীকরণের ক্ষেত্রে কাস্টমস, সিএন্ডএফ, অফডক, টার্মিনাল অপারেটর, বার্থ অপারেটর, স্ক্যানিং বিভাগসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আর এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।

টার্মিনাল অপারেটররা বলছেন, প্রতিটি কাজ আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করায় সক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না।

তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া বন্দরের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই। তবে অপারেশনাল কাজে গতিশীলতা আনতে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই তাদের পক্ষ থেকে।

উর্ধ্বমুখী আমদানি-রপ্তানির চাহিদা মেটাতে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল, ললদিয়া ও বে-টার্মিনালসহ একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। কিন্তু অপারেশনাল কাজে গতিশীলতা আনতে বন্দরের অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেবা প্রদানের প্রতিযোগিতা সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে দু’-একটি টার্মিনাল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ তাদের।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন