চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে কমেছে রাজস্ব আদায়ের হার

0

এককভাবে রাজস্ব আদায়ে দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে রাজস্ব আদায়ের হার কমেছে। চলতি অর্থবছরের শেষ মাসে নির্ধারিত চাহিদা থেকে এখনো ঘাতটি রয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। কাস্টমস কমিশনার বললেন, গাড়ি, খাদ্য ও ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রাংশ কম আমদানী হওয়া ও রেয়াতি সুবিধা বাড়ার কারণে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে চাহিদা পূরণ না হলেও গেল বারের চেয়ে বেশি রাজস্ব আসবে এবছরও। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন অভ্যন্তরীন কলকারখানার সক্ষমতা বাড়ায় আমদানী কমেছে।

গেল অর্থবছরেও ৪২ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা আদায় করে এককভাবে রাজস্ব আদায়ের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। বছরের শুরুতে আমদানী রপ্তানি বাণিজ্যের আনুপাতিক হার ধরে এবার এই প্রতিষ্ঠানের টার্গেট দেয়া হয়েছেলো ৫৭ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। কিন্তু বছরের শেষে এসে লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও যেতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। কারণ এখনো টার্গেট থেকে ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি পিছিয়ে আছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। যদিও তার ব্যাখ্যা দিলেন কাস্টমস কমিশনার।

আর ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, দেশীয় কলকারখানাগুলোর সক্ষমতা বাড়াই আমদানী কমেছে। তাই আমদানী নির্ভর রাজস্ব থেকে বেরিয়ে অন্য খাতগুলোতে নজর দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার বলছে, অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহায়তায় এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনো কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা আছে। রাজস্ব আদায় কমার এটিও একটি কারণ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে যে পরিমান মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে তার সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের মিল না থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্থনীতি।

কস্টমসের পরিসঙ্খন বলছে গেল বছরের চেয়ে এবার প্রায় ৪০টি ক্যাটাগরীতে আমদানী কমেছে। এর মধ্যে সবার শীর্ষ আছে গাড়ি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে এবার সাড়ে ৪ হাজার পিচ গাড়ি কম আমদানি হওয়ায় এই খাতে রাজস্ব কমেছে ৪৫০ কোটি টাকা। এছাড়া খাদ্য পণ্যের মধ্যে শুধু আপেলেই কমেছে দেড়শো কোটি টাকা। সমপরিমান রাজস্ব কমেছে টাইলসেও। সবধরনের ইলেক্ট্রনিক্স পার্স, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও কসমেটিসের আমদানিও কমেছে আশংকাজনকভাবে।

যেসব খাতে কমেছে রাজস্ব আয়
গাড়ি- ৪ হাজার ৫শো পিচ- ৪৫০ কোটি টাকা
চিনি- ৩ লাখ ৩০ হাজার টন- ৩২৬ কোটি টাকা
আপেল- ৪৯ হাজার ৭৭৮ টন- ১৫২ কোটি টাকা
সিরামিক টাইলস- ৪৬ হাজার ২৫৯ টন- ১৫২ কোটি টাকা
ডিজিটাল মিটার- ২ হাজার ৭৭ টন- ১৪৪ কোটি টাকা
এলএনজি পার্টস- – ৯৭০ কোটি টাকা
অপরিশোধিত লবন- ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৯ টন- ৬৫ কোটি টাকা
ওয়েল কেক- ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৯ টন- ৮৬ কোটি টাকা

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন