কল্পনা চাকমা পাহাড়ী-বাঙালিদের মাঝে আস্থার নাম

0

কল্পনা চাকমা। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করা পাহাড়ী-বাঙালিদের মাঝে আস্থার নাম। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় নির্বাচনের দিন নিখোজ হন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার আদায়ে সক্রিয় এই নারী নেত্রী। ঘটনার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে দায়ী করা হলেও ভিন্ন প্রচারণাও আছে পার্বত্য অঞ্চলে। তবে কল্পনা চাকমা অপহৃত হয়েছেন নাকি সেচ্ছায় অন্তর্ধানে গেছেন, সেই প্রশ্নের সুরাহা হয়নি গেলো ২৩ বছরেও।

অধিকার আদায়ের কথা বলে সহজ সরল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি সম্প্রদায়ের মানুষদের বিভ্রান্ত করে পার্বত্য অঞ্চলকে অশান্ত করে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয় স্বাধীনতার পর থেকে। কিন্তু ৯০ এর পর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হলে ভাটার টান লাগে সশস্ত্র তৎপরতায়। ৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তাই স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন পাহাড়ে বাস করা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

কিন্তু নির্বাচনের দিন ভোরে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তৎকালিন সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্নের জন্ম দেয় সেসময়।

ঘটনার পর কল্পনার পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েক জন সেনা সদস্যকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয় থানায়। তবে বাংলাদেশ মানবধিকার কমিশনসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভারতের অরুনাঞ্চলে অবস্থানরত কথিত স্বামী অরুণ বিকাশ চাকমার সঙ্গে কল্পনার ছবি।

দীর্ঘদিন পার্বত্য অঞ্চলে কাজ করা সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার মতে পাহাড়ী-বাঙালি সম্প্রতি নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র চলছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে কল্পনা চাকমা বিতর্কের অবসান করতে সরকারের আরো আন্তরিক হওয়া উচিত।

২৩ বছরেও কল্পনা চাকমা রহস্য উন্মোচন না হওয়ার দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না বলে মনে করেন সিনিয়র এই আইনজীবী।

কল্পনা চাকমা ঘটনার অনুসন্ধানে ১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে প্রথম তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এরপর জেলা বিশেষ শাখা, সিআইডি, পুলিশ হেডকোয়ার্টারসহ একাধিক সংস্থা আলাদা আলাদাভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু কোন প্রতিবেদনই সন্তুষ্ট করতে পারেনি কল্পনার পরিবার।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন