কর্ণফূলী নদীর দু’পাড়ের ২১৮৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি

0

চিহ্নিত করার পরও কর্ণফূলী নদীর দু পাড়ে গড়ে ওঠা দু’হাজার ১৮৭ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি এখনো। অন্তত ৪ দফায় নির্দেশনা দিয়েও আলোচিত এই উচ্ছেদ অভিযানে সক্রিয় করতে পারেনি কর্তৃপক্ষকে। জেলা প্রশাসনের পর আদালতের সবশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্ব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর। কিন্তু জেলা প্রশাসনের মতো বন্দরও দায় এড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবেশ কর্মীদের। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিগগির উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।

আদালতের নির্দেশে গেল ৮ ফেব্রুয়ারী এভাবেই সদরঘাট এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। কিন্তু ৫ দিনের মাথায় হঠাৎ করেই এই নদীর বেশিরভাগ এলাকা বন্দরের উল্লেখ করে অভিযান চালিয়ে নিতে অপারগতা জানায় জেলা প্রশাসক।

এরপর উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্ব পড়ে বন্দরের ওপর। আদালত ৭ মাসে দু দফায় নির্দেশনা দিয়েও উচ্ছেদ কাজে নামাতে পারেনি বন্দরকে। বন্দরের সঙ্গে, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সমন্ময় না হলে, নদী বাঁচানোর এই অভিযান আলোর মুখ দেখবে না বলে মনে করেন কর্ণফূলী রক্ষার আন্দোলনে সংশ্লিষ্টরা।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লালদিয়ার চর থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে তারা। আদালতের বেধে দেয়া আড়াই মাস সময় সীমার মধ্যেই অভিযান সম্পন্ন করা হবে।

বন্দরের দাবিকে অস্বীকার করে নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লালদিয়ার চরে কন্টেইনার টার্মিনাল তৈরীর প্রকল্প হিসেবে কিছু জমি অধিগ্রহন ও উচ্ছেদ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের উচ্ছেদকেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ দেখিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

সারাদেশের নদী দখলকারীদের তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। এই তালিকায়ও কর্ণফুলীর দখলদার হিসিবে চিহ্নিত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন