ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির ২২ বর্ষপূর্তি আজ

0

ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির ২২ বর্ষপূর্তি আজ। ১৯৯৭ সালে করা ওই চুক্তির পর পাহাড়ে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হলেও বন্ধ হয়নি রক্তপাত। এদিকে, ২২ বছর পার হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতির মধ্যে বেড়েছে দূরত্ব। চুক্তির বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সরকার দাবি করলেও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির অভিযোগ– সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়।

বাংলাদেশের এক-দশমাংশ আয়তনের পার্বত্য অঞ্চলে দু’যুগের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৭ সালে সই হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি। এ চুক্তিতে সরকারের পক্ষে সই করেন তৎকালীন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং অপরপক্ষে পাহাড়ী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন– জনসংহতি সমিতি বা কথিত শান্তি বাহিনীর প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা।

চুক্তির পর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অস্ত্র সমর্পণ করে পুনর্বাসিত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জীবনযাত্রা আগের চেয়ে অনেক উন্নত ও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। সেইসাথে বাড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

এদিকে, চুক্তির কিছুদিন পরই জনসংহতি সমিতির একটি অংশ ইউপিডিএফ নামে সশস্ত্র হয়ে আবার চলে যায় আণ্ডারগ্রাউণ্ডে। ফলে পাহাড়ী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নিজেদের মধ্যেই ফের শুরু হয় দ্বন্দ্ব-সংঘাত। বেড়ে যায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং চাঁদাবাজি। যার ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মার্চ রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয় নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ ৮ জন। এরপর গত ৮ মাসে সন্ত্রাসীদের হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় সেনা কর্মকর্তাসহ ২০ জনেরও বেশি মানুষ। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, পার্বত্য চুক্তি পাহাড়ে কতটুকু শান্তি আনতে পেরেছে?

এদিকে, পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হবার অভিযোগ করে জনসংহতি সমিতির প্রধান সন্তু লারমা বলেন, সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে গড়িমসি করায় পাহাড়ে অস্থিরতা বাড়ছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তির বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়েছে দাবি করে এমপি দীপংকর তালুকদার পাল্টা অভিযোগ করেন, জনসংহতি সমিতিই চুক্তি বাস্তবায়নের পরিবেশ নষ্ট করেছে। তবে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন করা না গেলে চুক্তির সুফল কখনোই পাওয়া যাবেনা, এমনটাই মনে করেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন