আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়

0

বিচারক, আইনজীবী এবং আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কুমিল্লায় বিচারকের খাস কামরায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়, দায়ের করা রিটের শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত আরো জানায়, হত্যাকাণ্ডের দিন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের গাফিলতি স্পষ্ট। তাই তদন্তশেষে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং সারাদেশের আদালতের নিরাপত্তায়ও কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা আগামী ৩০ জুলাইর মধ্যে জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

১৫ জুলাই দুপুর। কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজের খাস কামরায় এক আসামী আরেক আসামীকে কুপিয়ে হত্যা করে। পৈশাচিক ওই হত্যায় ব্যবহৃত ছোরাটির আকারই বলে দেয়, বাইরের কারো সহায়তা ছাড়া পুলিশী হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার আসামী হাসানের পক্ষে এই অস্ত্র নিয়ে আদালতকক্ষে প্রবেশ ছিল অসম্ভব।

এমন বাস্তবতায় সারাদেশের আদালতগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন একজন বিচারকের স্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। এসময় শুনানিতে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরে হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বিচার বিভাগের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে এবং জড়িতদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই দেশের প্রতিটি আদালতের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। ওই নির্দেশনার ৩ বছর পূর্তির পরদিনই কুমিল্লার এই ঘটনায় বিচার বিভাগের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন আইনজীবীরা।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন