অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত পোল্ট্রি শিল্প

0

তৈরিপোশাক শিল্পের পরেই দেশের অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত- পোল্ট্রি শিল্প। অথচ সরকারের পোল্ট্রি নীতি না থাকায় প্রায় ৬০ লাখ কর্মসংস্থান হওয়া এই শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্টরা। প্রযুক্তির আশীর্বাদে বড় ব্যবসায়ী, আর ওষুধ, খাবার ও বাচ্চা সরবরাহকারী সহযোগী সংস্থাগুলো লাভের মুখ দেখলেও পোল্ট্রি খাবারের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিম ও মাংসের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানে রয়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর অদূরে- গাজীপুরের দরগার চালায় ২০ বছর আগে পোল্ট্রি খামারটি গড়ে তোলেন সেলিনা আক্তার। শুরুতে ভালোই চলছিলো। মাঝে বার্ডফ্লুসহ নানা সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ান সেলিনা। কিন্তু মুরগীর বাচ্চা, খাবার ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত দু’বছর ধরে লোকসান গুণতে হচ্ছে।

একই অবস্থা পাশের খামারি রুহুল আমিনের। জানালেন, পোল্ট্রি উপকরণের দাম বাড়ার সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যায্যমূল্য থেকে। এতে ব্যবসা গুটাতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। তবে, কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন ‘সোনালী কক’ ও ব্রয়লার মুরগীর খামারীরা।

তবে, দেশের পোল্ট্রি খাতে ইদানীং বিপ্লব আনছে বড় পুঁজিতে গড়া আধুনিক প্রযুক্তির শিল্পগুলো। একসঙ্গে কয়েক লাখ মুরগী পালন ও ডিম উৎপাদনের পাশাপাশি উন্নত পদ্ধতিতে মাংস প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পোল্ট্রি খাবারও উৎপাদন করছে এসব প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু নানা কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ। খাবারের অন্যতম উপাদান- ভুট্টার প্রায় ৬০ শতাংশ ছাড়াও বিভিন্ন উপকরণ এখনো আমদানি নির্ভর। পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল– বিপিআইসিসি, এজন্য দায়ি করেছে সরকারের নীতি ও সহায়তার অভাবকে। এক দশক আগেও ছোট-বড় মিলিয়ে দেশে পোল্ট্রি খামারের সংখ্যা ছিল প্রায় সোয়া লাখ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে।

শেয়ার করুন।