অর্থনীতিতে অবদানের পাশাপাশি আমিষের যোগানদাতা পোল্ট্রি শিল্প

0

কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের পাশাপাশি চাহিদার ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ মাংস ও আমিষের যোগানদাতা হিসেবেও অবদান রাখছে- পোল্ট্রি শিল্প। ভুট্টা ও সয়াবিনের সমন্বয়ে অর্গ্যানিক পদ্ধতিতে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে এ শিল্পের খাবার। ফলে আমিষের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে উৎপাদনও। এ অবস্থায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগকে ২০২১ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করার কথা ভাবছেন- সংশ্লিষ্টরা। এজন্য শুল্ক প্রত্যাহারসহ সরকারি সহায়তার দাবি তাদের।

স্বল্প পুঁজিতে এ ধরনের ছোট খামার গড়ার মধ্য দিয়েই যাত্রা হয়েছিলো দেশের পোল্ট্রি শিল্পের। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি এই শিল্পে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। মুরগীর বাচ্চা উৎপাদন এবং বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও উৎপাদন হচ্ছে এখন আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে।

অতীতে ট্যানারির বর্জ্য থেকে তৈরি করা পোল্ট্রি ফিড মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় ব্রয়লার মুরগী ও ডিমের প্রতি অনীহা ছিলো অনেকের। বর্তমানে ভুট্টা ও সয়াবিনসহ নানা উপকরণের সমন্বয়ে অর্গানিক পদ্ধতিতে পোল্ট্রি ফিড তৈরি হওয়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, রেড-মিট তথা গরু-মহিষের মাংসে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি রয়েছে। যা মুরগীর মাংসে নেই। এছাড়া, দেশী মুরগী ও ডিমের মতোই ব্রয়লার মুরগীর মাংস ও ডিমে রয়েছে উচ্চশ্রেণীর আমিষ।

পোল্ট্রি শিল্পের ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও সরকার ভুট্টাসহ অন্য কাচামালের আমদানিতে শুল্ক আরোপ করেছে। বিনিয়োগে রয়েছে ব্যাংক ঋণের উচ্চসুদসহ নানা বাধা। যা এই শিল্পের দ্রুত বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে আশঙ্কা– পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল–বিপিআইসিসি’র নেতাদের।

বিপিআইসিসি’র তথ্য বলছে, ২০২১ সালে দেশে ডিমের বার্ষিক চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় দেড় হাজার কোটি এবং মুরগির মাংসের চাহিদা হবে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন। এজন্য প্রয়োজন হবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দরকার সরকারের সদিচ্ছা।

শেয়ার করুন।