অনেকটা ঢিমেতালেই চলছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট

0

অনেকটা ঢিমেতালেই চলছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাত বছর পার হলেও এখনো প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের বেশিরভাগই পূরণ হয়নি। জনবল সংকটে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে চলে বিভিন্ন দেশের মাতৃভাষা সংরক্ষণে গবেষণার কাজ। এর অধীনে দেশের একমাত্র ভাষা জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হলেও, জনপ্রিয়তা পায়নি, প্রচার প্রচারণার অভাবে।

মায়ের ভাষার ওপর বাংলার দামাল ছেলেদের মমত্ববোধ ও জীবন বিসর্জণের পথ বেয়ে ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালে তৎকালিন সরকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। ২০০১ সালে তৎকালিন জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের উপস্থিতিতে এর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়। এরপর সরকার পরিবর্তন ও নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নয় বছর পর সীমিত জনবল নিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা।

এরপর আরো পেরিয়ে গেছে সাত বছর। ১২ তলা ভবন তৈরির কথা থাকলেও এতদিনে নির্মিত হয়েছে ৫ তলা। প্রতিষ্ঠানটির ২২ টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত হলেও অনেকগুলোই পূরণ হয়নি এখনো। ভাষা বিষয়ে গবেষণার জন্য বৃত্তিপ্রদান, আন্তর্জাতিক মিডিয়া স্থাপন কিংবা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পদক ও সম্মাননা দেয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নেই এতো বছরেও । সবচে’ বড় সংকট- স্থায়ী লোকবলের। আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া লোকবলের মাধ্যমেই চলছে ভাষা বিষয়ক গবেষণা ও দাপ্তরিক কাজ।

তবে স্বস্তির বিষয়, দৃষ্টিনন্দন ও সমৃদ্ধ ভাষা জাদুঘর ও ভাষা বিষয়ক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা। তবে এটিও জমে উঠেনি প্রচারণার অভাবে। জাদুঘরের দর্শনার্থীদের দেখা মেলে- কালেভদ্রে। তবে জাদুঘর ও লাইব্রেরিকে পুরোপুরি ভার্চুয়াল জগতের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক।

তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিটউট কর্তৃপক্ষ বলছে, গবেষণা বা বিভিন্ন দেশের হারিয়ে যাওয়া ভাষা সংরক্ষণের কাজ এগিয়ে চলছে পুরোদমে। আর সব প্রতিকুলতা কাটিয়ে উঠতে আরো বেশ কিছু সময় প্রয়োজন।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন