অধ্যাপক মোজাফ্ফরের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ফুলেল শ্রদ্ধা

0

মাতৃভূমির জন্য কিভাবে নিজেকে উৎসর্গ করতে হয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার বাম রাজনীতির পুরোধা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। ন্যাপ সভাপতির বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে, এভাবেই নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষকসহ সব শ্রেনী পেশার মানুষ। এর আগে, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নামাজে জানাজা শেষে, দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। আর মুজিবনগর সরকারের এই উপদেষ্টাকে শেষ বিদায় জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নামে সবশ্রেনী পেশার মানুষের ঢল।

সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিন প্লাজায় শুরু হয় ন্যাপ সভাপতি মোজাফফর আহমদের প্রথম নামাজে জানাযা। জানাযা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় করা হয় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত। মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরীসহ সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

দেশের প্রতি অধ্যাপক মোজাফফরের আত্মত্যাগের স্মরণে দেয়া হয় গার্ড অব অনার। বিউগলে বেজে উঠে করুন সূর। মুজিব নগর সরকারের উপদেষ্টা প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফ্ফরের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। শ্রদ্ধা ও মৌনতায় প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, মরহুমের রেখে যাওয়া দৃষ্ট্রান্ত।

পরে দলীয় প্রধান হিসেবে শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আরেকবার শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের অবদানের কথা তুলে ধরেন রাজনীতিবিদরা। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়, মরহুমের স্মৃতিবিজরিত রাজনৈতিক কার্যালয়ে। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান ন্যাপের নেতাকর্মীরা।

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট থেকে মরদেহ নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হন নির্লোভ রাজনীতির অনুতম পুরোধা অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ। বাবার আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরেন তাঁর উত্তরাধিকার। ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা দ্বেবিদ্বারের এলাহাবাদ গ্রামে জন্ম নেন মোজাফফর আহমদ। অনুকরণীয় আদর্শের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে রোববার বাদ জোহর পারিবারিক কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত করা হবে।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন